ফণ্ট ডাউনলোড
নীড় আয়োজন অন্যান্য আয়োজন ওয়াহিদুল হক স্মরণ ১৪১৯

ওয়াহিদুল হক স্মরণ ১৪১৯

  • ১৪ মাঘ ১৪১৯, ২৭ জানুয়ারি ২০১৩
  • ১৪ মাঘ ১৪১৯, ২৭ জানুয়ারি ২০১৩
  • ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবন

ছায়ানটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ওয়াহিদুল হকের প্রয়াণ দিবস ২৭ জানুয়ারি (১৪ মাঘ, ১৪১৯) রোববারে ভোরে এক অনানুষ্ঠানিক আয়োজনে সমবেত হয়েছিলেন তাঁর অনুরাগীরা। ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনের নিচের তলার সম্মিলনে সবাই যোগ দেন গানে। একাধারে ২০টি গান গাওয়া হয়েছে। গান নির্বাচন করা হয় ওয়াহিদুল হকেরই প্রিয় গান থেকে। সন্ধ্যায় ছায়ানট মিলনায়তনে হয় মূল অনুষ্ঠান। শুরুতে সংগঠনের স্বপ্নদ্রষ্টাদের অন্যতম মোখলেসুর রহমান সিধু ভাই এবং তাঁর স্ত্রী শামসুন্নাহার আহমেদ রোজবুসহ প্রতিষ্ঠাকালীন অন্যদেরও স্মরণ করেন ছায়ানটের সভাপতি এবং প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মী সন্‌জীদা খাতুন। উল্লেখ করেন সকলের অসামান্য অবদানের কথা। ওয়াহিদুর হকের এক বছর পর ২০০৮ সালের ২৭ জানুযারি প্রয়াত হয়েছিলেন রোজবু। সভাপতি বিশেষভাবে শ্রদ্ধা জানান তাঁকে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সম্মেলক ছিল রবীন্দ্রনাথের ‘বজ্রে তোমার বাজে বাঁশি’ গানটি। নিয়মিত ওয়াহিদুল হক স্মারক বক্তৃতার জন্য আমন্ত্রিত বক্তা আসাদুজ্জামান নূর গল্পের ঢংয়ে তুলে ধরেন ওয়াহিদুল হকের কর্মজীবনের কথা। এই গুণি আবৃত্তি ও নাট্যব্যক্তি জানান তাঁর আবৃত্তি-পাঠ, নাটক-সিনেমাতেও সমদক্ষতায় কাজ করে যাবার কথা। নিজের সংস্কৃতি কর্মী হিসেবে উত্তরণ আর বাচনশিল্পের কাজে ওয়াহিদুল হকের প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন তিনি। নূর তাঁর কথা শেষ করেন আবৃত্তি দিয়ে। রবীন্দ্রনাথের আরেকটি গান ‘ আনন্দধ্বনি জাগাও গগনে’ দিয়ে শুরু হয় পরের পর্ব। ওয়াহিদুল হকের কাছ থেকে পাওয়া নান্দনিক বোধ নিয়ে কথা বলেছেন তাঁরই প্রথম জীবনের ঘনিষ্ঠ শিক্ষার্থী ইফ্ফাত আরা দেওয়ান। দৃষ্টান্ত হিসাবে নিজে গেয়েছেন ওয়াহিদুল হকের কাছে শেখা গান ‘নয়ন মেলি দেখি আমায় বাঁধন বেঁধেছে’। অন্যদেরও গাইয়েছেন এই শিষ্য। তানিয়া মান্নান গেয়েছেন ‘হৃদয় আমার প্রকাশ হল’, লাইসা আহমদ লিসা ‘তুমি কিছু দিয়ে যাও’, শারমিন সাথী ইসলাম ‘যদি আপনার মনে মাধুরী মিশায়ে’, ইখ্তিয়ার ওমর ‘যখন রব না আমি দিন হলে অবসান’। গানের নানা আঙিনায ওয়াহিদুল হকের আগ্রহের কথা বোঝাতে রবীন্দ্রভিন্ন অনেক গানই ব্যবহার করেছেন ইফ্ফাত। বাজিয়ে শুনিয়েছেন – আব্দুল করিম খাঁর গাওযা ‘যমুনা কি তীর’, বেঁচু দত্তের গাওযা ‘আমারে রেখেছ সোনার স্বপনে ঢাকি’, বীনতা বোসের গাওয়া ‘তোমার বাঁধন খুলতে’ গানের খণ্ডাংশ। বাজিয়ে শুনিয়েছেন ওয়াহিদুল হকের কণ্ঠে রবীন্দ্রকাব্য লিপিকা থেকে পাঠ। শেষ পর্বে তাঁর জীবন এবং জীবন দর্শনে ওয়াহিদুল হকের প্রভাবের কথা বলেন তারেক আলী। নানা দুর্যোগে দুস্থ মানুষের সেবায় এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় ওয়াহিদুল হকের কাজের অন্যতম সঙ্গী ছিলেন এই সংস্কৃতি কর্মী। গেয়েছেন তাঁর কাছেই শেখা ‘পুষ্প দিয়ে মারো যারে’, ‘আমার সকল নিয়ে বসে আছি সর্বনাশের আশায়’ এবং ‘আছ অন্তরে’। তাঁর প্রসঙ্গ ধরে মো. সিফায়েত উল্লাহ্ মুকুল গেয়েছেন ‘ওই পোহাইল তিমির রাতি’ এবং এ টি এম জাহাঙ্গীর ‘ভক্ত হৃদিবিকাশ’। সাথে সম্মেলক ছিল- ‘সুখহীন নিশিদিন পরাধীন হয়ে’, ‘অনেক দিনের শূন্যতা মোর’, ‘চলো, যাই চলো, যাই’। ধ্বনিমুদ্রিকায় ধারণ করা ওয়াহিদুর হকের কণ্ঠে ‘আমি চঞ্চল হে আমি সুদূরের পিয়াসী’ গানটির পর জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে শেষ হয় স্মরণ অনুষ্ঠান।

আয়োজন সবগুলো..

১২ শ্রাবণ, ২৭ জুলাই
বিশেষ অনুষ্ঠান
১৩ শ্রাবণ, ২৮ জুলাই
বর্ষার অনুষ্ঠান ১৪২৪
২২ শ্রাবণ, ৬ অগাস্ট
রবীন্দ্র-প্রয়াণবার্ষিকী
২৭ শ্রাবণ, ১১ অগাস্ট
শ্রোতার আসর: শ্রাবণ ১৪২৪