ফণ্ট ডাউনলোড
নীড় আয়োজন নজরুলজয়ন্তী ও প্রয়াণদিবস নজরুলপ্রয়াণদিবস ১৪২৩

নজরুলপ্রয়াণদিবস ১৪২৩

  • ১১ ভাদ্র ১৪২৩, ২৬ অগাস্ট ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:০০
  • ১১ ভাদ্র ১৪২৩, ২৬ অগাস্ট ২০১৬
  • ছায়ানট মিলনায়তন

১১ ভাদ্র ১৪২৩, ২৬ অগাস্ট ২০১৬, শুক্রবার। মানবতা ও দ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলামের আসন্ন প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে ছায়ানটের আয়োজনে “যাম-যোজনায় কড়ি মধ্যম” গীতি-আলেখ্য অনুষ্ঠিত হল ছায়ানট মিলনায়তনে। কাজী নজরুল ইসলামের রাগ-ভিত্তিক এই গীতি-আলেখ্যটি কোলকাতা বেতার কেন্দ্র থেকে ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ২২শে জুন প্রথম সম্প্রচারিত হয়।

উপমহাদেশীয় রাগ-সঙ্গীত শাস্ত্র অনুযায়ী রাগ-পরিবেশনায় দিনের বিভিন্ন সময় এবং ঋতু বৈচিত্র্যের প্রভাব আছে। ভারতীয় সঙ্গীত ঋষিরা দিবারাত্রির বিভাজিত অংশ হিসেবে প্রহর বা যাম নামক এককটিকে বিশেষ সময়-একক হিসেবে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। প্রাচীন ভারতের রাজদরবারে ধাতব ঘন্টা বা ঢাকে প্রহার করে আধুনিক তিন ঘন্টার সমান সময়ে যাম ঘোষণা করা হতো। ধারণা করা হয়, প্রহার থেকে প্রহর শব্দটি সংস্কৃত ভাষায় প্রবেশ করেছিল সে সময়ে। অনেকের মতে, রাজবাড়িতে তিন ঘন্টা পর পর ঢাক বাজিয়ে সময় ঘোষণা করা হতো, এই সময় প্রহরীরও পরিবর্তন ঘটতো। সেই কারণে যাম ঘোষণার সময় প্রহর নামে প্রচলিত হয়। উপমহাদেশের সঙ্গীতঋষিরা প্রহরে প্রহরে পরিবেশগত পরিবর্তন অনুভব করতেন। বিশ্বাস করতেন প্রহর পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের মনোগত অবস্থারও পরিবর্তন হয়। সেভাবেই প্রকৃতি ও সঙ্গীতের সমন্বয়ে ভারতীয় রাগ-সঙ্গীত হয়ে ওঠে আরো নান্দনিক। প্রহরভিত্তিক রাগগুলোর একপ্রান্তে থাকে প্রহর সূচনার রাগ, অন্যপ্রান্তে প্রহর শেষের রাগ। থাকে দুই প্রহরের সন্ধি-প্রকাশক সুরবিন্যাস। প্রহরভিত্তিক রাগগুলোর প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে, নজরুল উপলব্ধি করেছেন, সন্ধি-প্রকাশক সুরবিন্যাসে কড়ি মাধ্যমের একটি বিশেষ ভূমিকা আছে। এই সূত্রে তিনি ৮টি রাগকে বিশেষভাবে শনাক্ত করেন এবং সেগুলো দিয়ে এই গীতি-আলেখ্যটি তৈরি করেন।

গীতি-আলেখ্যটির পাণ্ডুলিপি দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিল। কোলকাতার রাস্তায় পড়ে থাকা অল-ইন্ডিয়া রেডিওর কাগজপত্রের ভিতর থেকে ওই পাণ্ডুলিপি উদ্ধার করেন নজরুল সঙ্গীত গবেষক আসাদুল হক। পাণ্ডুলিপিতে দেখা যায়, প্রহরসন্ধি রাগ হিসেবে নজরুল ইসলাম স্থান দিয়েছিলেন-ললিত, ঢৌড়ি, গৌড় সারং, মুলতান, পূরবী, ছায়ানট, বেহাগ ও পরজকে।

সুর-অঙ্গের বিচারে ‘যাম-যোজনায় কড়ি মধ্যম’-এর গান নিতান্তই রাগাশ্রয়ী নয়। কারণ এই গীতি-আলেখ্য যুক্ত রাগরূপের বর্ণনার পরে ব্যবহারিক নমুনা দেখানো হয়েছে, তার চারটি গানের সাথে ‘খেয়াল শুনুন’ এই নির্দেশনা রেখেছেন নজরুল। সেই বিচারে আলেখ্যের নজরুল রচিত গানগুলো খেয়াল হিসেবেই গাওয়া উচিত। সেই অনুষ্ঠানের জন্য তিনি কোন খেয়াল-শৈলী অনুসরণ করেছিলেন তা এখন আর জানবার উপায় নেই। তাই, আজকের অনুষ্ঠানে পরিবেশিত গীতিআলেখ্যটি একটু নিজেদের মতো করে সাজিয়ে নেয়া। প্রয়াণ বার্ষিকীতে নজরুল স্মরণে সেই রাগরূপগুলোর বর্ণনা দিয়ে গায়নশৈলীর মাধ্যমে সেগুলো উপস্থাপন এবং তাতে নিবন্ধ নজরুলসঙ্গীত পরিবেশিত হয়।

আয়োজন সবগুলো..

১২ শ্রাবণ, ২৭ জুলাই
সুফিয়া কামাল স্মারক বর্ষার অনুষ্ঠান