ফণ্ট ডাউনলোড
নীড় আয়োজন অন্যান্য আয়োজন প্রকাশনা উৎসব

প্রকাশনা উৎসব

  • ১৯ ফাল্গুন ১৪২১, ৩ মার্চ ২০১৫ সকাল ১১:০০
  • ১৯ ফাল্গুন ১৪২১, ৩ মার্চ ২০১৫
  • রমেশচন্দ্র দত্ত স্মৃতি মিলনকেন্দ্র, ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবন

১৯ ফাল্গুন ১৪২১, ৩ মার্চ ২০১৫, মঙ্গলবার। গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় ১৪২১ বঙ্গাব্দে ছায়ানট শুদ্ধসঙ্গীত, রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলগীতি ও লোকসঙ্গীতের অডিও সিডি এবং লোক গীতিকবিদের নিয়ে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে। শুদ্ধসঙ্গীতের সিডি ‘তিন প্রহরের রাগ’-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠান আগেই হয়েছে। আজ প্রকাশ করা হলো বাকি তিনটি সিডি এবং গ্রন্থ। মোড়ক উন্মোচন করেন ছায়নটের সহ-সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী এবং অডিও সিডিতে সঙ্গীত ও পাঠ পরিবেশন করা শিল্পী চন্দনা মজুমদার, খায়রুল আনাম শাকিল ও আব্দুস সবুর খান চৌধুরী। পরে গ্রন্থের ভূমিকা পাঠ করে শোনান আব্দুস সবুর খান চৌধুরী, সঙ্গীত পরিবেশন করেন খায়রুল আনাম শাকিল  ও চন্দনা মজুমদার।

নজরুলের গান নিয়ে উত্তর দক্ষিণের রাগ এবং রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়ে রূপে রূপে অপরূপ অডিও সিডির পাঠ এবং আবৃত্তিতে অংশ নিয়েছেন কাজী মদিনা, আব্দুস সবুর খান চৌধুরী, লিয়াকত খান, কৃষ্টি হেফাজ ও লাইসা আহমদ লিসা। তিনটি সিডির মোড়ক সৃজন করেছেন মানযারে শামীম এবং ইমরুল চৌধুরী। নিচে প্রতিটি প্রকাশনার বিস্তারিত সংযুক্ত করা হলো।

গ্রন্থ

লোক গীতিকবিদের দৃষ্টি ও সৃষ্টিবীক্ষা: অচিনপাখির কলগীতি

প্রেক্ষাপট: বাংলার শ্রুতি-স্মৃতিনির্ভর আবহমান লোকসঙ্গীত তথা লোকসাহিত্যই বাঙালি সংস্কৃতির আদি বাসা। সে-সংস্কৃতি মুখ থেকে শ্রবণে বাহিত স্মৃতির ধন হয়ে সর্বজনের আস্বাদ্য হয়ে এসেছে। দিনে দিনে স্থায়িত্ব রক্ষার প্রয়োজনে মুদ্রাযন্ত্রের সূত্রে গীতসাহিত্যের শ্রুতিসত্তা বিলুপ্ত হতে বসল। অক্ষরপরম্পরায় সজ্জিত প্রতীকচিত্রের দৃষ্টিগ্রাহ্য রূপ নিল সঙ্গীত/সাহিত্য। স্মরণ করা যায়,এর আগেও নাটগানের পরিবেশনায় সংস্কৃতির একরকমের দৃষ্টিগ্রাহ্য রূপ ছিল;সুকুমার সেনের বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস-এ বর্ণিত নাটগীতি পরিবেশনার ধরণ সে সাক্ষ্য দেয়। বোঝা যায়,সে-গীত প্রথমত শ্রবণ,তার পরে দর্শনের বিষয় ছিল। পরবর্তী সময়ের মুদ্রিত পাঠ হলো প্রধানত দেখে বুঝবার,তার পরে মনের কানে শুনবার বিষয়। দিনে দিনে শ্রবণের পুরোনো অভ্যাস লুপ্ত হয়ে আমরা আপন-মনে পাঠ করে রসগ্রহণের পথ নিলাম। পরিণামে সাক্ষরজনের সাহিত্য শহরে-নগরে চলিত মুদ্রিত গ্রন্থে বদ্ধ হলো;আর সাধারণ তথা অক্ষর-না-জানা মানুষের সাহিত্য-সঙ্গীত-ধারার নাম হলো ‘লোকসঙ্গীত/সাহিত্য’। ‘ছায়ানটে’র এই প্রবন্ধ সংকলনটিতে বাংলার লোকসংস্কৃতির কবি-গীতিকারদের নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়েছে। সুধীর চক্রবর্তীর অন্যত্র প্রকাশিত ‘রূপে নয়ন ডুবল না রে’ শিরোনামের একটি প্রবন্ধ এ গ্রন্থের শুরুতে বিন্যস্ত হলো। আশা, এতে গ্রন্থটির মান বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের গুণী প্রাবন্ধিকদের কটি লেখাও থাকছে। সবশেষে ‘ছায়ানট সঙ্গীতবিদ্যায়তন’-সংশ্লিষ্ট কজন শিক্ষক-গবেষকের রচনা এ সংগ্রহে রয়েছে। অল্প কয়েকটি  প্রবন্ধ ছাড়া বাকি সব লেখাই ‘ছায়ানটে’র সাহিত্য-সংস্কৃতি ত্রৈমাসিক বাংলাদেশের হৃদয় হতে পত্রিকা থেকে নেওয়া হয়েছে।

অডিও সিডি

রবীন্দ্র-সুরবাণী বিচিত্রা: রূপে রূপে অপরূপ

প্রেক্ষাপট: সুরের চলনকে নিয়মিত করে ছন্দ, ছন্দ আবার চলে ভাবের পিছু পিছু। আর, কখনো কখনো একই বাণীতে ধীর আর দ্রুত গতির দুই সুরে দুরকমের ভাব মূর্ত হয়। রবীন্দ্রনাথ আপন খেয়ালে বা চাহিদার পিঠে স্বীয় সৃষ্টির রূপ থেকে রূপান্তর করেছেন অজস্র। কবিতা থেকে গান, গান থেকে কবিতা, আবার সেই কবিতাকে সুরে ঢালার দরুন রূপ থেকে রূপে যাওয়া-আসার পরিচয় রবীন্দ্র-সৃষ্টির অভিনব পালা। এই সৃষ্টিলীলার সৌন্দর্য তুলে ধরবার প্রয়াস – ‘রূপে রূপে অপরূপ’।

গ্রন্থনা ও উপস্থাপনা করেছেন সন্‌জীদা খাতুন। একক গান গেয়েছেন ফাহ্‌মিদা খাতুন, ইফ্‌ফাত আর দেওয়ান, মহিউজ্জামান চৌধুরী ময়না, মিতা হক, আব্দুল ওয়াদুদ, ইলোরা আহমেদ শুক্লা, তানিয়া মান্নান, লাইসা আহমদ লিসা, আজিজুর রহমান তুহিন, মো.সিফায়েত উল্লাহ মুকুল এবং সত্যম্ কুমার দেবনাথ। যুক্ত হয়েছেন দুটি সম্মেলক গান।

অডিও সিডি

রাগসঙ্গীত বিহারে নজরুল: উত্তর-দক্ষিণের রাগ

প্রেক্ষাপট: কাজী নজরুল ইসলামের স্বাভাবিক সুরবিহার ছিল উত্তরী পদ্ধতির সঙ্গীত ঘরানায়। আপাতভাবে পৃথক সঙ্গীত-রীতি হিসেবে বিবেচিত দক্ষিণী দেশীয় রীতিতেও তিনি গান বেঁধেছেন,আপন সৃজনশীলতার স্পর্শে উভয়ের মিলনে জাগিয়েছেন অভিনব সুরছন্দ। এই সুরস্রষ্টা কেবল দক্ষিণী-ধারার ধ্রুপদী রীতি অনুসরণ করেননি,আপন সঙ্গীত-প্রতিভার গুণে উভয় ধারার সম্মিলনে পৃথক আরেক সুরছন্দ এনেছেন বাংলা গানে।

দক্ষিণী সঙ্গীতপদ্ধতির সঙ্গে উত্তরী সঙ্গীতধারার মিলনে নজরুলের সুর-সৃষ্টির অঞ্জলি – ‘উত্তর-দক্ষিণের রাগ’।

১১টি একক গান নিয়ে এই সিডি। গেয়েছেন শাহীন সামাদ, সেলিনা হোসেন, খায়রুল আনাম শাকিল, নাসিমা শাহিন ফ্যান্সি, ফারহানা আক্তার শ্যার্লি, নুসরাত জাহান রুনা, দেবশ্রী অন্তরা দাশ, তানভীর আহমেদ, লতিফুন জুলিও, প্রিয়াংকা গোপ এবং নাহিয়ান দূরদানা শুচি।

অডিও সিডি

বাংলার মাটির সুরছন্দ: অচিনপাখির কলগীতি

প্রেক্ষাপট: আউল-বাউল-ফকির-দরবেশ আর সুফি সাধকদের চিন্তাচেতনা দিয়ে সমৃদ্ধ বাংলার লোকসঙ্গীত প্রবাহ। ঐতিহ্যসম্মত এই ধারা আমাদের সংস্কৃতিকে নিরন্তর ঋদ্ধ করে চলেছে। গ্রামগঞ্জের মহাজনদের বিশাল ভাণ্ডার থেকে কিছু গান ‘অচিন পাখির কলগীতি’ ধ্বনিমুদ্রিকায় ধরা হয়েছে। একটি ‘সংগ্রহ’ গান ছাড়া এতে রয়েছে লালন শাহ্, রাধারমণ দত্ত, শেখ ভানু, পাগলা কানাই, জালাল উদ্দীন খাঁ, মনোমোহন দত্ত, বিজয়কৃষ্ণ সরকার, জসীম উদ্‌দীন, মহেশচন্দ্র রায়, হরলাল রায় আর এ কে এম আব্দুল আজিজের লেখা ১২ খানি গান।

সিডির দুটি সম্মেলক ছাড়া ১১ খানা গান গেয়েছেন নির্মল চন্দ্র মজুমদার, নাদিরা বেগম, চন্দনা মজুমদার, নারায়ণ চন্দ্র শীল, সরদার মো. রহমাতুল্লা, মোখলেসুর রহমান মিন্টু, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, তপন মজুমদার, স্বপ্না রায়, আবুল কালাম আজাদ এবং এরফান হোসেন।

 

সহযোগিতায়: গ্রামীণফোন

আয়োজন সবগুলো..