ফণ্ট ডাউনলোড
নীড় আয়োজন জাতীয় দিবস বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান

বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান

  • ২ পৌষ ১৪২২, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫ বিকাল ৩:৫০
  • ২ পৌষ ১৪২২, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ

1422-09-02_Bijoy-dibosh_DSC2229

২ পৌষ ১৪২২, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫, বুধবার। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ছায়ানটের যৌথ আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের খোলা মাঠে সমবেত কণ্ঠে দেশের গান গাইলেন হাজার দু-এক দেশপ্রেমিক। বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় “মুখে বাংলা, বুকে বাংলা, আমার সোনার বাংলা” এই আহ্বানের মধ্য দিয়ে। পুরো মাঠ প্রকম্পিত হয় বাংলার মানুষের প্রাণের স্লোগান “জয় বাংলা’-এ। জাতীয় সঙ্গীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে সকলের মুক্তকণ্ঠে দেশ-গান গাইবার আর কথা বলবার মুক্ত এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ.আ.ম.স. আরেফিন সিদ্দিক। সাথে ছিলেন ছায়ানটের সভাপতি সন্‌জীদা খাতুন ও দীপ্ত টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহিদুল হাসান।

জাতীয় পতাকার আদল আর রঙে মাঠের মাঝখানের লাল বৃত্তের মধ্যে বর্গাকার উঁচু মঞ্চে ৭টি সম্মেলক গানের সাথে নৃত্য পরিবেশিত হয়। মঞ্চ ঘিরে সকল সম্মেলকে নেতৃত্ব দেয় ছায়ানটের জনা ৪৮ ক্ষুদে শিল্পী এবং ১৬ জন নবীন শিক্ষক। লাল বৃত্তাকার এলাকা ধারে ছিলেন ছায়ানট সংশ্লিষ্ট সকল সদস্য ও শিক্ষক। চারদিকে সবুজ আয়তক্ষেত্র তৈরি করে বসে গেয়েছেন বাকি সকল গায়ক এবং ছায়ানট সুহৃদেরা।

পাকিস্তান আমলে বাংলা-প্রতিকূল পরিবেশে বাঙালির মনে আত্ম পরিচয়ে বাঁচবার বিশ্বাস জাগিয়ে তুলতে ১৯৬৭ সালে ছায়ানট বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠান শুরু করে। আজ তা রাজধানী,জেলা,দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্ব জুড়ে ধর্ম-বর্ণ-আদর্শ নির্বিশেষে বাঙালির সবচে বড়ো প্রাণের উৎসব। ছায়ানট অনুধাবন করছে, পাকিস্তানের কবল থেকে মুক্ত হবার চার দশক পেরোনোর পরেও পূর্ণাঙ্গ বাঙালি হয়ে বিশ্ব মানবতাকে ধারণ করার মতো মানস তৈরি হয়নি কিছু স্বাধীন দেশবাসীর। মানসিকতা আর মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে চলেছে। মাতৃভূমি এবং দেশের মানুষকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে ইদানীংকালে কিছু বিচ্যুতি, হানাহানিও পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, দেশকে-মানুষকে ভালোবাসার গান নিয়ে সকলে একত্র হতে শুরু করলে মানুষে মানুষে বিভেদ লাঘব হবে। জাগরণ ঘটবে জাতীয় চেতনা ও মানবতাবোধের।
ছায়ানট বিশ্বাস করে সংস্কৃতি দিয়ে আবারো বাঙালিকে এক করা সম্ভব,দিনে দিনে এক রাখা সম্ভব। সকল দেশভক্তকে উন্মুক্ত মাঠের এই অনুষ্ঠানে খোলা গলায় সম্মেলক গানে কণ্ঠ মেলানোর মধ্য দিয়ে অংশী করাই ছিল এই আয়োজনের লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানক্রম
১. আহ্বান ও শ্লোগান – মুখে বাংলা, বুকে বাংলা, আমার সোনার বাংলা। জয় বাংলা
২. জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন: উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৩. সম্মেলক গান – আমি মারের সাগর পাড়ি দেব, নৃত্য: নৃত্যনন্দন
৪. সম্মেলক গান – আমি ভয় করব না ভয় করব না, নৃত্য: নৃত্যনন্দন
৫. সম্মেলক গান – নবীন আশা জাগল যে রে আজ, নৃত্য: ছায়ানট
৬. একক আবৃত্তি – তুমি বাংলা ছাড়: মোহাম্মদ জহিরুল হক খান
৭. সম্মেলক গান – জয় হোক জয় হোক, নৃত্য: নৃত্যনন্দন
৮. সম্মেলক গান – আমার দেশের মতন এমন দেশ কি কোথাও আছে, নৃত্য: ভাবনা
৯. শ্লোগান – জয় বাংলা
১০. একক গান – বিপ্লবের রক্তরাঙা ঝাণ্ডা ওড়ে আকাশে: খায়রুল আনাম শাকিল
১১. সম্মেলক গান – বাংলাভূমির প্রেমে আমার প্রাণ হইল পাগল, নৃত্য: বাংলাদেশ ব্রতচারী সমিতি
১২. সম্মেলক গান – লাখো লাখো শহীদের রক্তমাখা, নৃত্য: ছায়ানট
১৩. শ্লোগান – জয় বাংলা

আয়োজন সবগুলো..