ফণ্ট ডাউনলোড
নীড় আয়োজন জাতীয় দিবস বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান

বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান

  • ২ পৌষ ১৪২৩, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৬ অপরাহ্ন ১৫:৪০
  • ২ পৌষ ১৪২৩, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৬ অপরাহ্ন ১৬:৩৩
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ

৩ পৌষ ১৪২৩, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬, শনিবার। গতকাল ২ পৌষ ১৪২৩, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৬, শুক্রবার, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ছায়ানটের যৌথ আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সমবেত কণ্ঠে দেশের গান গাইলেন হাজার দু-এক দেশপ্রেমিক। বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পুরো মাঠ প্রকম্পিত বাংলার মানুষের প্রাণের স্লোগান “জয় বাংলা’-শ্লোগানের মধ্য দিয়ে। এরপর জাতীয় সঙ্গীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে সকলের মুক্তকণ্ঠে দেশ-গান গাইবার আর কথা বলবার মুক্ত এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ও ছায়ানট সভাপতি সন্‌জীদা খাতুন। সাথে ছিলেন ছায়ানটের নজরুল সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষক শাহীন সামাদ এবং শারমিন সাথী ইসলাম।

জাতীয় পতাকার আদল আর রঙে মাঠের মাঝখানের লাল বৃত্তের মধ্যে বর্গাকার উঁচু মঞ্চে ৯টি সম্মেলক গানের সাথে নৃত্য পরিবেশিত হয় এবং সৈয়দ শামসুল হকের ‘ব্রহ্মপুত্রের প্রতি’ কবিতার  সাথে ১ টি নৃত্যাবৃত্তি পরিবেশিত হয়। এছাড়াও ২ টি একক সঙ্গীত এবং ১ টি দ্বৈত সঙ্গীত পরিবেশিত হয়।  লাল বৃত্তাকার এলাকা ধারে ছিলেন ছায়ানট সংশ্লিষ্ট সকল সদস্য ও শিক্ষক। সম্মেলক গানগুলোর সঙ্গে নৃত্য পরিবশন করেছেন ছায়ানটের শিল্পীরা ছাড়াও জাগো আর্ট সেন্টার, নৃত্যনন্দন, নৃত্যম নৃত্যশীলন কেন্দ্র ও ব্রতচারী। চারদিকে সবুজ আয়তক্ষেত্র তৈরি করে বসে গেয়েছেন বাকি সকল গায়ক এবং ছায়ানট সুহৃদেরা।

পরিসরে বড় করা হয়েছে এবারের আয়োজন। যুক্ত হয়েছে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, লালমাটিয়া মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, আটি ভাওয়াল উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়,  ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ, ই্ঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল ও কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যাণ্ড কলেজ, হলিক্রস স্কুল ও কলেজ এবং অরণি, উদয়ন ও উদ্দীপন বিদ্যালয়, একাডেমিয়া, এক্সেল একাডেমি, সাউথ ব্রীজ, সানবীমস্, মিরপুর ক্যাণ্টনমেণ্ট পাবলিক স্কুল এণ্ড কলেজে, সানিডেল এবং স্কলাসটিকা স্কুল।

পাকিস্তান আমলে বাংলা-প্রতিকূল পরিবেশে বাঙালির মনে আত্ম পরিচয়ে বাঁচবার বিশ্বাস জাগিয়ে তুলতে ১৯৬৭ সালে ছায়ানট বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠান শুরু করে। আজ তা রাজধানী,জেলা,দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্ব জুড়ে ধর্ম-বর্ণ-আদর্শ নির্বিশেষে বাঙালির সবচে বড়ো প্রাণের উৎসব। ছায়ানট অনুধাবন করছে, পাকিস্তানের কবল থেকে মুক্ত হবার চার দশক পেরোনোর পরেও পূর্ণাঙ্গ বাঙালি হয়ে বিশ্ব মানবতাকে ধারণ করার মতো মানস তৈরি হয়নি কিছু স্বাধীন দেশবাসীর। মানসিকতা আর মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে চলেছে। মাতৃভূমি এবং দেশের মানুষকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে ইদানীংকালে কিছু বিচ্যুতি, হানাহানিও পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, দেশকে-মানুষকে ভালোবাসার গান নিয়ে সকলে একত্র হতে শুরু করলে মানুষে মানুষে বিভেদ লাঘব হবে। জাগরণ ঘটবে জাতীয় চেতনা ও মানবতাবোধের।
ছায়ানট বিশ্বাস করে সংস্কৃতি দিয়ে আবারো বাঙালিকে এক করা সম্ভব,দিনে দিনে এক রাখা সম্ভব। সকল দেশভক্তকে উন্মুক্ত মাঠের এই অনুষ্ঠানে খোলা গলায় সম্মেলক গানে কণ্ঠ মেলানোর মধ্য দিয়ে অংশী করাই ছিল এই আয়োজনের লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানক্রম

জাতীয় সঙ্গীত ও উদ্বোধন সন্‌জীদা খাতুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ও ছায়ানট সভাপতি
নৃত্যগীত মোরা ঝঞ্ঝার মত উদ্দাম নৃত্যনন্দন
নৃত্যগীত দুর্গম গিরি কান্তার মরু ভরতনাট্যম বিভাগ, ছায়ানট
গান অবাক পৃথিবী অবাক করলে তুমি নাসিমা শাহিন ফ্যান্সি ও শারমিন সাথী ইসলাম ময়না
নৃত্যগীত এবার তোর মরা গাঙে মণিপুরী বিভাগ, ছায়ানট
গান এই না বাংলাদেশের গান চন্দনা মজুমদার
নৃত্যগীত আমরা তো উজ্জ্বল সূর্য  নৃত্যম নৃত্যশীলন কেন্দ্র
নৃত্যগীত কলকল ছলছল জাগো আর্ট সেন্টার
নৃত্যগীত এখন আর দেরি নয় মণিপুরী বিভাগ, ছায়ানট
১০ স্লোগান জয় বাংলা জহিরুল হক খান
১১ নৃত্যগীত বাংলা মার দুর্নিবার ব্রতচারী
১২ নতুন গান এই পৃথিবীটা যদি হয় শাহিন সামাদ
১৩ নৃত্যগীত তিরিশ লক্ষ জীবন দিয়া ভরতনাট্যম বিভাগ, ছায়ানট
১৪ নৃত্যাবৃত্তি সৈয়দ শামসুল হকের ‘ব্রহ্মপুত্রের প্রতি’ লিয়াকত খান এবং নৃত্যনন্দন
১৫ নৃত্যগীত লাখো লাখো শহীদের রক্তমাখা মণিপুরী বিভাগ, ছায়ানট
১৬ স্লোগান জয় বাংলা জহিরুল হক খান

 

আয়োজন সবগুলো..

১৭ আষাঢ়, ২৯ জুন
নজরুল-উৎসব ১৪২৫