বিজয় দিবস ২০১৬ উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন | ছায়ানট, বাংলাদেশ








		
		










 







	 
	
নীড় সংবাদ বিজয় দিবস ২০১৬ উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন


বিজয় দিবস ২০১৬ উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন

২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, ১০ ডিসেম্বর ২০১৬, শনিবার, বিকেল ৫ টায় ছায়ানট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো ছায়ানট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথভাবে ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের মহান বিজয়-দিবস উদ্‌যাপন এর সংবাদ সম্মেলন। এ সম্মেলনে অনুষ্ঠানের  পরিকল্পনা, ছক এবং নতুন সংযোজনের বিষয়ে বিস্তারিত সংবাদ উপস্থাপন করেন ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আনাম শাকিল। এরপর অনুষ্ঠানের লক্ষ্য, আদর্শ এবং উদ্দেশ্য ব্যক্ত করে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় করেন ছায়ানটের সভাপতি সন্‌জীদা খাতুন।

সাধারণ সম্পাদক তাঁর বক্তব্যে বলেন:

পাকিস্তান আমলের প্রতিকূল পরিবেশে বাঙালির মনে আত্ম পরিচয়ে বাঁচবার বিশ্বাস জাগিয়ে তুলতে ১৯৬৭ সালে ছায়ানট বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠান শুরু করে; আজ রাজধানী,জেলা,দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে ধর্ম-বর্ণ-আদর্শ নির্বিশেষে যা বাঙালির সবচে বড়ো প্রাণের উৎসব। তেমনই এক জাগরণ সঞ্চারণের লক্ষ্যে ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের বিজয়-দিবসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ছায়ানট আয়োজন করে ‘সকলে মিলে দেশ-গান গাইবার, দেশ-কথা বলবার’ এক মিলনানুষ্ঠানের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদয় সহযোগিতায় এবার তার দ্বিতীয় আয়োজন। এবারও গোটা অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করবে দীপ্ত টেলিভিশন।

পরিসরে বড় করা হয়েছে এবারের আয়োজন। যুক্ত হয়েছে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, লালমাটিয়া মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, আটি ভাওয়াল উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, ইমপিরিয়াল কলেজ, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ, ই্ঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল ও কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যাণ্ড কলেজ, লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি লিমিটেড স্কুল অ্যাণ্ড কলেজ, হলিক্রস স্কুল ও কলেজ এবং অরণি, উদয়ন ও উদ্দীপন বিদ্যালয়, একাডেমিয়া, এক্সেল একাডেমি, সাউথ ব্রীজ, সানবীমস্, সানিডেল এবং স্কলাসটিকা স্কুল। সম্মেলক গানগুলোর সঙ্গে নৃত্য পরিবশন করবে ছায়ানটের শিল্পীরা ছাড়াও জাগো আর্ট সেন্টার, নৃত্যনন্দন, নৃত্যম নৃত্যশীলন কেন্দ্র ও ব্রতচারী।

সমাবেশের মতো ব্যাপ্তি ঘটেছে বিষয়েও। এবারের নতুনত্ব, বিজয়-দিবস আয়োজন উপলক্ষ্যে নতুন গানের সৃষ্টি–লিখেছেন কবির বকুল, সুর দিয়েছেন সুজেয় শ্যাম।

এবারে আয়োজনে সকলের গাইবার সম্মেলক ৯টি – দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার হে/ এখন আর দেরি নয়, ধর্ গো তোরা হাতে হাতে ধর্ গো/ মোরা ঝঞ্ঝার মত উদ্দাম/ কলকল ছলছল নদী করে টলমল/ বাংলা মা’র দুর্নিবার আমরা তরুণ দল/ আমরা তো উজ্জ্বল সূর্য, ভোর ক’রে যাই কালরাত্রি/ এবার তোর মরা গাঙে বান এসেছে/ তিরিশ লক্ষ জীবন দিয়া, আনছি স্বাধীনতা/ ও লাখো লাখো শহীদের রক্তমাখা।

১৬ই ডিসেম্বর বেলা ৩টা চল্লিশ মিনিটে ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজনের উদ্বোধন করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয়, আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। সকলে মিলে দেশের গান গাওয়া ও শোনা, আর কথা বলা ও শোনা এবং সেই সঙ্গে বাংলার নৃত্যশৈলী দেখার আয়োজন চলবে- ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনির আত্মসমর্পনের সময় পর্যন্ত। দেশজুড়ে সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে সমাপ্তি টানা হবে অনুষ্ঠানের।

আয়োজক, সাংবাদিক এবং নির্বাচিত শিল্পী ও তাঁদের সঙ্গীরা মাঠে প্রবেশ করবেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন জিমনেশিয়ামের গেট দিয়ে। জনসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে দোয়েল চত্বর সংলগ্ন সুইমিং পুল গেট। নিরাপত্তা বিধানে এই আয়োজনে সর্বাত্মক সহায়তা দিচ্ছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শৃঙ্খলা রক্ষা সহযোগিতায় থাকছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোভার স্কাউটস ইউনিট সদস্যরা। তাঁদের প্রতি আগাম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি মঞ্চ পরিকল্পনা ও নকশা প্রণয়নের জন্য স্বাগতা রওনক, সুজিত দে ও নাহাস খলিলের প্রতি এবং মঞ্চ-মোড়ক নির্মাণের জন্য দেশাল-এর প্রতি। নতুন গানের গীতিকার ও সুরকার এবং আমন্ত্রিত সকল প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের কাছেও ছায়ানট কৃতজ্ঞ।

ভেদাভেদ দূরে ঠেলে মহান বিজয়-দিবসের দিনে সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি প্রিয় জাতীয় পতাকার সবুজে দেহ ও মন রাঙাতে, সর্বান্তকরণে ষোল আনা বাঙালি হয়ে উঠতে।