আমাদের এই পতাকা - বিজয় দিবস ২০২৩
আরম্ভের সময় | ১ পৌষ ১৪৩০/ ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১৫:৪৫ ঘটিকা |
সমাপ্তির সময় | ১ পৌষ ১৪৩০/ ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১৬:৩৫ ঘটিকা |
আয়োজন স্থান | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ |

মনের যত কলুষ, যত বিদ্বেষ, যত বিভেদ, যত মিথ্যার কারায় বন্দিত্ব–বিদ্রোহী কবির ডাকে সেসব লৌহকপাট ভেঙে লোপাট করার প্রত্যয় নিয়ে; দেশের মাটিকে অনিঃশেষ ভালবাসার শপথ উচ্চারণ করে; আন্দোলন-সংগ্রামে, লাখো বলিদানে লালসবুজ পতাকার গৌরব দেহমনে মেখে মহান বিজয় দিবস উদ্যাপন করল ছায়ানট। আয়োজনের যৌথ সঙ্গী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
বিকেল পোনে চারটায় লাল-সবুজে ছাওয়া বিশ্ববিদ্যলয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে, হাজারো কণ্ঠে গাইবার বলবার এবারের আয়োজনের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল এবং ছায়ানটের নির্বাহী সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী। আমাদের এই পতাকা শিরোনামে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করেছে দীপ্ত টেলিভিশন।
মিনিট পঞ্চাশের আয়োজনে পরিবেশিত হয়েছে নৃত্যসহ ৮টি সম্মেলক গান, ও আমার দেশের মাটি, আজি রক্ত নিশি ভোরে, পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, এই না বাংলাদেশের গান গাইতে রে দয়াল, লাখো লাখো শহীদের রক্তমাখা, জয় বাংলা বাংলার জয়, আরে ভালো ভালো ভালোরে ভাই এবং কারার ঐ লৌহ কপাট। দেশগানগুলো বেছে নেওয়া হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, গোবিন্দ হালদার, আবদুল লতিফ, মোহাম্মদ মোশাদ আলী, গাজী মাজহারুল আনোয়ার এবং গুরুসদয় দত্তের রচনা থেকে। আবুল কালাম আজাদ একক কণ্ঠে পরিবেশন করেন শাহ আবদুল করিমের গান জীবন আমার ধন্য যে হায়। সৈয়দ শামসুল হকের পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় কাব্য নাটকের নির্বাচিত অংশ উপস্থাপন করেছেন ত্রপা মজুমদার।
সকলে মিলে দেশের গান গাওয়া ও শোনা, আর কথা বলা ও শোনা এবং সেই সঙ্গে বাংলার নৃত্যশৈলীর রসাস্বাদনের আয়োজন শেষ হয় ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ১৬ই ডিসেম্বরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণ ও বাঙালির পূর্ণাঙ্গ বিজয়ের ক্ষণকে স্মরণ করে সম্মিলিত কণ্ঠে ৪টা ৩১ মিনিটে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে।
হাজার পাঁচেক সর্বসাধারণ এবং ছায়ানটের শিল্পী-শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সঙ্গে এবারের আয়োজনে যুক্ত হয়েছে–থার্টিন হুসার্স ওপেন স্কাউট গ্রুপ, ব্রতচারী, আজিমপুর গার্লস হাইস্কুল, আটি ভাওয়াল উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজ, ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজ, নালন্দা বিদ্যালয় ও সানিডেল। মিলিত কণ্ঠে দেশের গান গাইবার এই আয়োজনের নিরাপত্তা বিধানে সর্বাত্মক সহায়তা দিয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বাঙালির বিজয়ের বার্ষিকে সকলকে নিয়ে গাইবার, বলবার এই মিলনানুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য–সাংস্কৃতিক নবজাগরণের মানসে ভেদাভেদ দূরে ঠেলে, জাতীয় পতাকার লাল-সবুজে দেহ ও মন রাঙিয়ে, কায়মনে শাশ্বত বাঙালি হয়ে উঠবার ব্রত নিয়ে; গোটা বিশ্বেই মানবিক ও সম্প্রীতি বোধের সঞ্চার ঘটানো।
বাঙালির ওপর পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ-বঞ্চনা-নিপীড়ন এবং সংস্কৃতিবিনাশী আগ্রাসনের মধ্যে আত্মপরিচয়ে বাঁচবার বিশ্বাস জাগিয়ে তুলতে ১৯৬৭ সালে ছায়ানট বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠান শুরু করে। আজ যা রমনা উদ্যানের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালির সবচে বড়ো প্রাণের উৎসব। দেশ মুক্ত হবার পর দিনে দিনে, কালে কালে ছায়ানট উপলব্ধি করে, স্বাধীন হয়েও বাঙালি সম্পূর্ণরূপে সেই অশুভ শক্তিকে বিতাড়িত করতে পারেনি, বেদম করে ফেলছে সাম্প্রদায়িকতার বিষ, মানবিকবোধের ক্ষয়, মূল্যবোধের অবক্ষয়। তাই দেশ-দশের সাম্য ফেরাতে, বাঙালিকে একাত্ম রাখতে–ভালবাসার হাজারো বছরের আপন সংস্কৃতিতে নবজাগরণ সঞ্চার করার ব্রত নিয়ে মহান বিজয়দিবসে ছায়ানট ‘সকলে মিলে দেশ-গান গাইবার, দেশ-কথা বলবার’ আয়োজন করে আসছে। বাঙালির দাবি আদায়ের আন্দোলনের পুরোভাগের দিশারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে অনন্য এই মিলনমেলার সূচনা ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের বিজয়দিবসে।
অনুষ্ঠানসূচি:
ক্রম | বিষয় | কথা/শিরোনাম | রচয়িতা/সুরকার | পরিবেশনা |
সূচনা | মুখে বাংলা, বুকে বাংলা, আমার সোনার বাংলা, জয় বাংলা | জহিরুল হক খান | ||
১ | জাতীয় সঙ্গীত | সম্মেলক | ||
২ | স্লোগান | জয় বাংলা | জহিরুল হক খান | |
৩ | নৃত্যগীত | ও আমার দেশের মাটি | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | সম্মেলক |
৪ | নৃত্যগীত | আজি রক্ত নিশি-ভোরে | কাজী নজরুল ইসলাম | সম্মেলক |
৫ | নৃত্যগীত | এই না বাংলাদেশের গান | মোশাদ আলী | সম্মেলক |
৬ | স্লোগান | জয় বাংলা | জহিরুল হক খান | |
৭ | একক গান | জীবন আমার ধন্য যে হায় | শাহ্ আব্দুল করিম | আবুল কালাম আজাদ |
৮ | নৃত্যগীত | আরে ভালো ভালো ভালো রে ভাই | গুরু সদয় দত্ত | ব্রতচারী |
৯ | স্লোগান | জয় বাংলা | জহিরুল হক খান | |
১০ | নৃত্যগীত | পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে | গোবিন্দ হালদার/ সমর দাস | সম্মেলক |
১১ | একক উপস্থাপন | 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়'-অংশ বিশেষ | সৈয়দ শামসুল হক | ত্রপা মজুমদার |
১২ | নৃত্যগীত | জয় বাংলা বাংলার জয় | গাজী মাজহারুল আনোয়ার/আনোয়ার পারভেজ | সম্মেলক |
১৩ | স্লোগান | জয় বাংলা | জহিরুল হক খান | |
১৪ | নৃত্যগীত | কারার ঐ লৌহ কপাট | কাজী নজরুল ইসলাম | বিমান চন্দ্র বিশ্বাস বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান তূর্য |
১৫ | স্লোগান | জয় বাংলা | জহিরুল হক খান | |
১৬ | নৃত্যগীত | লাখো লাখো শহীদের রক্তমাখা | আবদুল লতিফ | সম্মেলক |
১৭ | ঘোষণা | আত্মসমর্পণের মূহুর্তের উল্লেখ | ||
১৮ | জাতীয় সঙ্গীত | সম্মেলক | ||
যন্ত্রানুষঙ্গ: | ||||
তবলা: ক) গৌতম সরকার , খ) স্বরূপ হোসেন | ||||
কিবোর্ড: রবিন্স চৌধুরী, দোতারা: রতন কুমার রায় | ||||
ঢোল: শিবু দাস , মন্দিরা: প্রদীপ কুমার রায় |
অনুষ্ঠানের ফেইসবুক-ভিডিও লিংক: https://fb.watch/o_pARGZxbT/